
দীঘিনালা প্রতিনিধি: দূর্জয় বড়ুয়া
“আমরা ভেবেছিলাম হয়তো আর নিরাপদে ফিরতে পারব না। কিন্তু স্থানীয়দের সহযোগিতা আর সেনাবাহিনীর আন্তরিকতায় কোনো ভয় নেই। পাহাড়ে তাদের অবদান বলে শেষ করা যাবে না”—ঢাকা থেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটক মো. হারুন অর রশিদের কণ্ঠে ছিল স্বস্তির সুর।
অন্যদিকে ঢাকার হলিক্রিসেন্ট কলেজের ছাত্রী বুসরা বলেন, “প্রথমে খুব ভয় পেয়েছিলাম অবরোধের কথা শুনে। কিন্তু সেনাবাহিনী আমাদের নিরাপত্তা দিয়ে ফিরিয়ে এনেছে। এই সহায়তা আমি কোনোদিন ভুলব না।”
অবরোধে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফেরাতে সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশেষ উদ্যোগ নেয় সেনাবাহিনী। দীঘিনালা জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ওমর ফারুক (পিএসসি)–এর নির্দেশে সাজেকে আটকে থাকা অর্ধশতাধিক টুরিস্ট গাড়িসহ প্রায় ৪ শতাধিক পর্যটককে বাঘাইহাট জোন থেকে রিসিভ করে দীঘিনালা সেনাবাহিনী। এরপর নিরাপত্তা স্কট দিয়ে তাদের খাগড়াছড়ি জেলা সদরে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এ সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতি পর্যটকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে। স্থানীয়রাও সহযোগিতা করে পর্যটকদের পাশে ছিলেন।
খাগড়াছড়িতে জুম্মু ছাত্র–জনতার ডাকে চলমান অবরোধ ও ১৪৪ ধারা জারি থাকায় জেলা সদর ও গুইমারায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থান, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অস্থায়ী চেকপোস্ট এবং টহল জোরদারের কারণে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক রয়েছে।
জানা যায়, গত শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার জেলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করেন। যদিও ধারা এখনো বহাল রয়েছে, তবুও জুম্মু ছাত্র–জনতা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে জেলার প্রতিটি উপজেলায়।
তবুও সেনাবাহিনী ও পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার কারণে সাজেক থেকে ফেরত আসা পর্যটকরা নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন।





