“সাজেক সফরে নিরাপত্তা ও উন্নয়নে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য উপদেষ্টার”

দুর্জয় বড়ুয়া (প্রতিনিধি

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, “পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন আমাদের অগ্রাধিকার। স্থানীয় জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করছে।” তিনি আরও বলেন, “সাজেকের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট স্থায়ীভাবে মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের জীবনমান উন্নত করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।”

রাঙামাটির সাজেক পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। তাদের এই সফর পার্বত্য এলাকার নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (০৩ এপ্রিল) সকালে বিজিবির হেলিকপ্টারে করে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য উপদেষ্টা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইহাটে পৌঁছান। সেখানে তারা ৫৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ান ও ৬ বেঙ্গল সেনা জোনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সেনা ও বিজিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পাশাপাশি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় করেন।

পরবর্তীতে, দুপুর ১টার দিকে হেলিকপ্টারে করে তারা সাজেকের ২৭ বিজিবি বিওপিতে যান। সেখানে স্থানীয় হেডম্যান ও কার্বারীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাজেকে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধের জন্য অস্থায়ীভাবে একটি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট নিয়োজিত রাখার নির্দেশ দেন। এছাড়া, পার্বত্য এলাকার নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এই সফরে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগে. জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সেনাবাহিনীতে চাকুরিরত অবস্থায় ১৯৯০ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত বাঘাইহাটে কর্মরত ছিলেন, যা তার এই অঞ্চলের প্রতি বিশেষ আগ্রহের কারণ বলে মনে করা হয়।