
দুর্জয় বড়ুয়া( প্রতিনিধি)
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই থেমে থাকে না, বরং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো অঞ্চলগুলোতে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে এবং দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে তারা নিয়মিত বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা সেনা জোন এবার উপজেলার দেড় শতাধিক দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ইউনিয়নের ১নং কবাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই উপহার বিতরণ করা হয়। নেতৃত্বে ছিলেন ০৪ ইস্ট বেঙ্গল “দি বেবী টাইগার্স” দীঘিনালা সেনা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ওমর ফারুক, পিএসসি। তার তত্ত্বাবধানেই সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঈদের আগে এই সহায়তা নিয়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ায়।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া উপহারসামগ্রীর মধ্যে ছিল সেমাই, চিনি, দুধ, নুডুলস, চাল, ডাল, তেলসহ আরও বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। এই উপহার পেয়ে সুবিধাভোগীদের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি ও আনন্দের ঝিলিক। অভাবের কারণে যাদের পক্ষে ঈদের প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন ছিল, তাদের জন্য সেনাবাহিনীর এই সহায়তা যেন ঈদের আনন্দেরই আরেক নাম হয়ে ওঠে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও সেনাবাহিনীর এই মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করেন। কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা জ্ঞান বলেন, “সেনাবাহিনী শুধু নিরাপত্তার দায়িত্বই পালন করে না, বরং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক দায়িত্বও পালন করে আসছে। তাদের এই উদ্যোগ এলাকার মানুষের জন্য অনেক উপকারী হয়েছে। আমরা সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞ।”
কবাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম বদিউজ্জামান জীবন বলেন, “সেনাবাহিনী প্রতি বছরই এমন উদ্যোগ নেয়, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। দরিদ্র মানুষদের জন্য এটি বড় সহায়তা। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
ঈদ উপহার বিতরণ শেষে দীঘিনালা সেনা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ওমর ফারুক, পিএসসি বলেন, “আমরা শুধু ঈদ নয়, সারাবছরই সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। রমজান মাসজুড়ে আমরা ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছি এবং অন্তত পাঁচ শতাধিক এতিম শিশুর জন্য ইফতার ও দোয়ার আয়োজন করেছি। আমাদের এই মানবিক কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।”
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শুধু নিরাপত্তা রক্ষায় নয়, বরং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এই ঈদ উপহার বিতরণ কর্মসূচিও সেই ধারাবাহিক মানবিক কার্যক্রমেরই অংশ, যা অসহায় মানুষদের ঈদের আনন্দকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে এবং শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা বহন করবে।