শূন্য থেকে শীর্ষে—জনি পালের ব্যবসায়ের বাজিমাত

অভি পাল

পড়াশোনা আর ব্যবসা একসাথে—এটা কি সম্ভব? ২০১৫ সালে জনি পাল প্রমাণ করেছেন, সত্যিই সম্ভব। মাত্র ৫০০০ টাকা দিয়ে মাছ চাষের যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি, যখন তিনি নিজেই ছাত্র ছিলেন। চারপাশে সবাই তাকে বলেছিল, “এতে কিছু হবে না, চাকরির পেছনে ছুটো!” কিন্তু জনি তখনও জানতেন, নিজের কিছু করার স্বপ্ন দেখলে সফলতা একদিন নিশ্চিতভাবে আসবে।

শুরুটা ছিল কঠিন—অনভিজ্ঞতা, লোকসান, অনেক ঝুঁকি। তবে তার মাথায় ছিল একটাই ধারণা—কঠোর পরিশ্রম এবং সাহস। সেই সাহসেই তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন, আর আজ তার সাতটি পুকুরে মাছ চাষ হচ্ছে, যার মধ্যে রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, পাঙ্গাস ইত্যাদি মাছ রয়েছে। এই সাতটি পুকুরই তিনি লিজ নিয়ে পরিচালনা করেন। বর্তমানে তার মোট মূলধন প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা, যা তার পরিশ্রমের ফলস্বরূপ।

জনি পালের বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভার  ৮ নং ওয়ার্ডের   দক্ষিণ গাছবাড়িয়ার পালপাড়ায়।জনি বলেন, “যখন শুরু করেছিলাম, তখন অনেকেই বলেছিল এটা লাভজনক হবে না। কিন্তু আমি জানতাম, যদি পরিশ্রম করি এবং একাগ্রতা রাখি, তাহলে সফলতা আসবেই। প্রথম দিকে অনেক বাধা ছিল, কিন্তু কখনো হাল ছাড়িনি। আজ ভগবানের আর্শীবাদে ভালো ফল পাচ্ছি।”

তরুণদের উদ্দেশ্যে তার মেসেজ, “যারা চাকরির পেছনে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, তাদের জন্য বলি—নিজেই কিছু শুরু করুন। আমি যদি পড়াশোনা করার পাশাপাশি সফলভাবে মাছ চাষ শুরু করতে পারি, তাহলে আপনি সবাই পারবেন। ব্যবসায় শুধু ঝুঁকি নয়, সঠিক পরিকল্পনা আর পরিশ্রম দিয়ে লাভের সম্ভাবনাও অনেক।”

জনি পালের গল্প আমাদের শেখায়, স্বপ্ন দেখাটা গুরুত্বপূর্ণ, তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে পরিশ্রম, সাহস এবং একাগ্রতা জরুরি। তরুণদের জন্য তার জীবনযাত্রা একটি শক্তিশালী প্রমাণ যে, নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য শুধু উদ্যোগ আর পরিশ্রমই যথেষ্ট।